নাজাসাত

মাসয়ালা-১: নাজাসাত হচ্ছে ১১ টি যথাঃ
ক)- প্রস্রাব,
খ)- পায়খানা,
গ)- বীর্য,
ঘ)- মৃতদেহ,
ঙ)- রক্ত,
চ)- কুকুর,
ছ)- শুকর,
জ)- মুশরিক,
ঝ)- মদ,
ঞ)- ফাক্কা',
ট)- যে উট নাজাসাত খায় তার ঘাম।

ক, খ)- প্রস্রাব ও পায়খানাঃ-

মাসয়ালা-২: মানুষের পায়খানা ও প্রস্রাব এবং যে সকল পশুর মাংস হারাম অর্থাত্‍ যে সকল প্রাণীর রগ কেটে দিলে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয় তা নাজিস বা অপবিত্র।

মাসয়ালা-৩: হারাম মাংসের পাখির পায়খানা হচ্ছে পবিত্র।

মাসয়ালা-৪:নাজাসাত খায় এমন পশুর প্রস্রাব ও পায়খানা হচ্ছে নাজিস এবং এমন সকল পশুর প্রস্রাব ও পায়খানা যাদের সাথে মানুষ সঙ্গমক্রিয়া আঞ্জাম দিয়েছে। আর যে ভেড়া বা ছাগল শুকরের দুধ খেয়ে বড় হয়েছে।

গ)- বীর্যঃ-

মাসয়ালা-৫: যে পশুর রক্ত জাহান্দেদার (যে সকল প্রাণীর রগ কেটে দিলে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়) তাদের বীর্য নাজিস।

ঘ)- মৃতঃ-

মাসয়ালা-৬: যে সকল প্রাণীর রক্ত জাহান্দেদার (যে সকল প্রাণীর রগ কেটে দিলে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়) তাদের মৃতদেহ হচ্ছে নাজিস। তাই সে নিজে মরে গিয়ে থাকে অথবা ইসলামী নির্দেশ অনুযায়ী জবাই করা না হয়ে থাকে। আর যেহেতু মাছের রক্ত জাহান্দেদার নয় তাই যদি পানির মধ্যেও মরে গিয়ে থাকে তবুও তা পাক।

মাসয়ালা-৭: মৃতের চোখ, চুল, নখ, হাড় ও দাঁত, অর্থাত্‍ যে অংশগুলোর রুহ নেই তা যদি এমন প্রাণীর না হয়ে থাকে যা জীবীত অবস্থায়ও নাজিস যেমনঃ কুকুর, তবে তা পাক বলে ধরা হবে।

মাসয়ালা-৮:যদি মানুষের অথবা যে সকল প্রাণীর রক্ত জাহান্দেদার তারা জীবীত থাকা অবস্থায় তাদের    শরীর থেকে এক টুকরো মাংস অথবা কোন অংশ কেটে ফেলা হয় তবে এই টুকরো মাংস বা অংশ হচ্ছে নাজিস।

মাসয়ালা-৯: ঠোটের চামড়া বা শরীরের অন্য অংশের চামড়া যা পড়ে যাওয়ার সময় হয়েছে তা যদি উঠিয়ে ফেলে তবে তা পাক বলে ধরা হবে।

মাসয়ালা-১০: যে মুরগির ডিম মুরগির পেট থেকেই মৃত অবস্থায় দুনিয়ায় আসে যদিও তার উপরের চামড়া শক্ত না হয়েও থাকে তবুও তা পাক।

মাসয়ালা-১১: যদি ভেড়ী বা মেয়ে ছাগল মরে যায় এবং তখনও তার বাটে পনির জাতিয় কিছু থেকে থাকে তবে তা পাক। বাহ্যিকভাবে তার উপর অবশ্যই পানি ঢেলে দিতে হবে।

মাসয়ালা-১২: তরল ঔষধ, আতর, তৈল, জুতার কালি, সাবান যা অমুসলিম দেশ থেকে আনা হয় যদি কোন মুসলমান তা পবিত্র হওয়ার উপর বিশ্বাস না রাখে তথাপিও তা পাক।

মাসয়ালা-১৩: মাংস, দুম্মার পাছার চর্বি ও চামড়া এমন জাতিয় কিছু যদি মুসলমানের হাতে থাকে এবং যদি জানা থাকে যে ঐ মুসলমান তা কাফেরের কাছ থেকে নিয়েছে ও সে যাচাই করেনি যে তা ইসলামী নির্দেশে জবাই হয়েছে কি না তাহলে তা নাজিস বলে ধরা হবে তবে তা খাওয়া হারাম হবে এবং ঐ চামড়া দিয়ে তৈরী পোশাক পরে নামায পড়লে তা সঠিক হবে না।

ঙ)- রক্তঃ-

মাসয়ালা-১৪: মানুষের ও যে সকল প্রাণী জাহান্দেদার রক্তের অধিকারী তাদের রক্ত নাজিস। সুতরাং যে সকর প্রাণী যেমন মাছ ও মশা যাদের রক্ত জাহান্দেদার নয় তাদের রক্ত পাক।

মাসয়ালা-১৫: যদি হালাল মাংসের অধিকারী পশুকে ইসলামের নির্দেশ মোতাবেক জবাই করা হয় এবং তার থেকে সাধারণ পরিমান রক্ত বের হয়ে আসে সেক্ষেত্রে তার ঐ পশুর শরীরে যে রক্ত লেগে আছে তা পাক। কিন্তু যদি নিঃশ্বাস নেয়া অথবা ঐ পশুর মাথাকে কোন উচু স্থানে রাখার কারণে রক্ত প্রবাহীত হয়ে শরীরে লেগে যায় তবে ঐ রক্ত হচ্ছে নাজিস।

মাসয়ালা-১৬: ডিমের মধ্যে যে রক্ত থাকে তা নাজিস নয় তবে এহতিয়াতে মুসতাহাব হচ্ছে তা খাওয়া থেকে দুরে থাকা।

মাসয়ালা-১৭: ক্ষত স্থান শুখিয়ে যাওয়ার সময় তার চারপাশে যে হলুদ বর্ণের আকৃতি ধারন করে তা যদি বোঝা যায় যে রক্তের সাথে সম্পৃক্ত নয় তবে তা পাক।

মাসয়ালা-১৮: দুধ দোয়ানোর সময় কখনো রক্ত দেখা যায় তা হচ্ছে নাজিস এবং দুধকেও নাজিস করে থাকে।

মাসয়ালা-১৯: দাঁত থেকে অনেক সময় রক্ত বের হয়ে আসে তা যদি মুখের লালার সাথে মিশে গিয়ে নিঃশ্চিহ্ন হয়ে যায় তবে তা হচ্ছে পাক এবং তা মুখের লালার সাথে গিলে ফেলাতেও কোন অসুবিধা নেই।