মাসয়ালা-১ পানি হয় মুতলাক অথবা মুযায়াফঃ মুযায়াফ পানি হচ্ছে এমন যা তা কোন কিছু থেকে নেয়া হয়েছে অথবা কিছু তার সাথে মিশ্রিত করা হয়েছে৷ যেমন তরমুজের রস, আঙ্গুরের রস, আপেলের রস, আখের রস ইত্যাদি এবং যে পানিতে মাটি গোলানো হয়েছে যাকে আর শুধুমাত্র পানি বলা যায় না৷ আর তা হচ্ছে পাচঁভাগে বিভক্তঃ ১- কুর পানি, ২- কালিল পানি, ৩- প্রবাহীত পানি, ৪- বৃষ্টির পানি এবং ৫- কুয়ার পানি৷
মাসয়ালা-২কুর পানি হচ্ছে এমন পরিমান পানি যা লম্বায়, চওড়ায় ও গভিরতায় সাড়ে তিন বিঘাত আয়তনের একটি পাত্রে ধারণকৃত পানির পরিমানে হয়৷ আর তার ওজন আনুমানিক ৩৩৭ কিলোগ্রাম হবে৷
মাসয়ালা-৩যদি সর্ব অবস্থায় নাজিস (নাপাক) যেমনঃ প্রস্বাব, পায়খানা ও রক্ত কুর পানির সাথে মিলিত হয় এবং এই মিলিত হওয়ার কারণে ঐ পানির রং, গন্ধ ও স্বাদ পরিবর্তন হয়ে যায় তবে তা নাজিস হয়ে যাবে৷ আর যদি মিলিত হওয়ার পরেও উক্ত পরিবর্তন পরিলতি না হয় তবে তা নাজিস হবে না৷
মাসয়ালা-৪যদি কুর পানির রং, গন্ধ ও স্বাদের পরিবর্তন প্রস্বাস, পায়খানা ও রক্ত মিলিত না হওয়ার কারণে হয়ে তাকে তবে তা নাজিস হবে না৷
মাসয়ালা-৫যদি অস্তিত্বগত অপবিত্রতা যেমন রক্ত কোর পানির থেকেও বেশ পরিমান পানির সাথে মিশ্রিত হয়ে যায় এবং ঐ পানির একটি অংশের রং, গন্ধ ও স্বাধের পরিবর্তন ঘটায় আর অপরিবর্তীত পানির পরিমান যদি কোর পানির পরিমানে না হয়ে থাকে তবে সম্পূর্ণ পানিটাই নাজিস বলে গন্য হবে৷ আর যদি অপরিবর্তীত পানির পরিমান কোর পানি অথবা তার বেমী পরিমানে হয়ে থাকে তবে শুধুমাত্র ঐ পরিবর্তন সাধিত পানি নাজিস বলে গন্য হবে৷
মাসয়ালা-৬ফোয়ারার পানি যদি কোর পানির সাথে সম্পৃক্ত থাকে আর যদি তা ফোটা ফোটা হয়ে পড়ার আগেই নাজিস পানির সাথে মিলিত হয় তাহলে সর্তকতামূলক ওয়াজিব হচ্ছে তা তার সাথে মিশ্রিত হয়ে ঐ পানিকে পবিত্র করবে, কিন্তু যদি তা ফোটা ফোটা হয়ে পড়ার পর নাজিস পানির সাথে মিলিত হয় সেক্ষেত্রে ঐ পানিকে পবিত্র করবে না৷
মাসয়ালা-৭যদি কোন নাজিস কিছুকে ট্যাবের পানিতে (যে পানি কোর পানির সাথে সম্পৃক্ত) ধোয়া হয় এবং ধোয়ার সময় কিছু পানি যা ছিটকে পড়ে তা যদি কোর পানির সাথে সম্পৃক্ত থাকে এবং তার রং, গন্ধ ও স্বাধের পরিবর্তন না ঘটায় তবে তা পবিত্র বলে গন্য হবে৷
মাসয়ালা-৮যদি কোর পানির এক অংশ বরফ হয়ে যায় এবং অবশিষ্ট পানি কোর পানির পরিমানে না থাকে আর তার সাথে যদি নাজিস পদার্থ মিলিত হয় তবে উক্ত পানি এবং বরফের থেকে অল্প অল্প যে পানি গলে বের হবে তা নাজিস বলে গন্য হবে৷
মাসয়ালা-৯যে পানি কোর পানির পরিমানে ছিল, যদি তার ব্যাপারে কেউ সন্ধেহ করে যে কোর পানির থেকে কম হয়েছে না হয়নি, তবে তা কোর পানির মানদন্ড থেকে সরে আসবে না৷ অর্থত্ ঐ পানি নাজিসকে পবিত্র করবে এবং যদি তার সাথে নাজিস পদার্থ মিলিত হয় তবে তা নাজিস হবে না৷ আর যে পানি কোর পানির থেকে কম পরিমানে ছিল, যদি তার ব্যাপারে কেউ সন্ধেহ করে যে তা কোর পানির পরিমানে উন্নিত হয়েছে না হয়নি, তবে ঐ পানি কোর পানির মানদন্ডে আসবে না৷
মাসয়ালা-১০পানি কোর না কোর নয় তা দুই পদ্ধতিতে প্রমানযোগ্যঃক) মানুষ নিজেই সে ব্যাপারে ইয়াকিন (বিশ্বাস) হাসিল করবে৷খ) দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি সে ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করবে৷
মাসয়ালা-১বৃষ্টির, কুয়োর ও প্রবাহীত (যা কোর নয়) পানিকে কালিল পানি বলা হয়৷
মাসয়ালা-২যদি কালিল পানিতে কোন নাজিস পদার্থ ফেলা হয় অথবা কোন নাজিস
কিছু তার সাথে মিলিত হয় তবে তা নাজিস হয়ে যাবে৷ কিন্তু যদি উপর থেকে কোন নাজিস
কিছুর উপর কালিল পানি ঢালা হয় তবে শুধুমাত্র যে পরিমান পানি তার সাথে মিলিত হবে তা
নাজিস হবে আর যা উপরে থাকবে তা নাজিস হবে না৷ আর যদি ফোয়ারার পানির ন্যায় অধিক
গতিতে নিচে থেকে উপরে যায়
সেক্ষেত্রে নাজিস কিছু উপরে পৌছায় তাহলে নিচের স্থান নাজিস হবে না৷ আর যদি নাজিস উপর
থেকে নিচে আসে তবে উপরের অংশ নাজিস বলে গন্য হবে৷
মাসয়ালা-৩
যে কালিল পানি নাজিস কোন পদার্থের উপর ঢালা হয় এবং ঐ নাজিস
পদার্থের উপর থেকে গড়িয়ে আসে তা নাজিস বলে গন্য হবে৷ তদ্রূপ অন্যান্য দৃষ্টিমতে কোন
কিছুর থেকে অস্তিত্বগত অপবিত্রা দুর হয়ে যাওয়ার পরে তা পবিত্র কারার জন্য তার উপর
কালিল পানি ঢালা হয়ে থাকে তার থেকেও যেন অবশ্যই সতর্ক থাকে৷ কিন্তু যে পানি দিয়ে
পায়খানা ও প্রস্বাবে স্থান পবিত্র করা হয়ে থাকে তা ৫টি শর্তে পবিত্র থাকবেঃ
ক) তা যেন নাজিস পদার্থের রং, গন্ধ ও স্বাদযুক্ত না হয়৷
খ) বাইরের কোন নাজিস পদার্থ তার সাথে মিলিত না হয়৷
গ) পায়খানা ও প্রস্বাবের সাথে অন্য নাজিস যেমন রক্ত বের না হয়ে থাকে৷
ঘ) পায়খানার অতিক্ষুদ্র অংশ (যা চোখে দেখা যায়) তা যেন তাতে
না থাকে৷
ঙ) সাধারণ পরিমানের বাইরে মলদ্বারের স্থানের আশে পাশের স্থানে যেন নাজিস পদার্থ না
পৌছে থাকে৷
৩- প্রবাহীত পানি
মাসয়ালা-১প্রবাহীত পানি হচ্ছে এমন যার কোন উত্স রয়েছে এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসে ও প্রবাহীত হয়৷
মাসয়ালা-২ প্রবাহীত পানি যদি তা কোর পানির পরিমানে না হয়ে থাকে এবং তার সাথে নাজিস পদার্থ মিলিত হয় কিন্তু যতণ পর্যন্ত তার রং, গন্ধ ও স্বাদের পরিবর্তন হচ্ছে না ততণ পর্যন্ত তা পবিত্র বলে গন্য হবে৷
মাসয়ালা-৩ যদি কোন নাজিস পদার্থ প্রবাহীত পানির সাথে মিলিত হয় এবং তার এক অংশের পানির রং, গন্ধ ও স্বাধের পরিবর্তন ঘটিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ঐ এক অংশ নাজিস বলে গন্য হবে৷ আর অন্য যে বাকি অংশ উত্সের সাথে সম্পৃক্ত তা পবিত্র বলে গন্য হবে, আর যদি তা না হয়ে থাকে তবে তা নাজিস বলে গন্য হবে৷
মাসয়ালা-৪ এমন এক স্থান যেখানে মাটি ফুড়ে কিছু পানি বেরিয়ে জমা হয়েছে কিন্তু তা প্রবাহীত নয়, তবে তার থেকে যদি পানি তোলা হয় পূনরায় পনির পরিমান পূর্বের পর্যায়ে ফিরে যায়৷ এরূপ ক্ষেত্রে যদি কোন নাজিস পদার্থ ঐ পানির সাথে মিলিত হয়, তবে যতণ না ঐ পানির রং, গন্ধ ও স্বাদের পরিবর্তন হচ্ছে ততক্ষণ ঐ পানি পবিত্র বলে গন্য হবে৷
মাসয়ালা-৫নদীর পানি প্রবাহীত হওয়ার সময় তার কিনারায় যে পানি স্থির অবস্থায় রয়েছে কিন্তু প্রবাহীত পানির সাথে সম্পৃক্ত এরূপ ক্ষেত্রে যদি কোন নাজিস পদার্থ ঐ পানির সাথে মিলিত হয়, তবে যতণ না ঐ পানির রং, গন্ধ ও স্বাদের পরিবর্তন হচ্ছে ততণ ঐ পানি পবিত্র বলে গন্য হবে৷
মাসয়ালা-৬এমন একটি স্থান যেখানে গরমকালে মাটি থেকে পানি উঠে এবং শীতকালে তা বন্ধ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র গরমকালে যদি ঐ পানির সাথে কোন নাজিস পদার্থ মিলিত হয় আর তা যদি কোর পানির পরিমানে না হয়েও থাকে তবুও তা পবিত্র বলে গন্য, কিন্তু যদি ঐ নাজিস পদার্থের সাথে মিলিত হওয়ার ফলে ঐ পানির রং, গন্ধ ও স্বাদের পরিবর্তন ঘটে তবে তা পবিত্র বলে গন্য হবে না৷
মাসয়ালা-৭গোসলখানার ট্যাবের পানি যদি কোর পানির সাথে সম্পৃক্ত থাকে তবে তার ক্ষেত্রে প্রবাহীত পানির অনুরূপ আমল করতে হবে৷ আর তা যদি কোর পানির সাথে সম্পৃক্ত থাকার পরেও তার রং, গন্ধ ও স্বাদের পরিবর্তন ঘটে তবে তা নাজিস বলে গন্য হবে৷
মাসয়ালা-৮যে পানি মাটির উপর প্রবাহীত কিন্তু তা মাটি থেকে বেরিয়ে আসছে না, তবে তা যদি কোর পানির থেকে কম পরিমানের হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে তার সাথে নাজিস পদার্থ মিলিত হওয়ার সাথে সাথে তা নাজিস হয়ে যাবে৷ তবে যদি তা উপর থেকে নিচে গড়িয়ে পড়ে এবং নাজিস পদার্থ নিচের পানির সাথে মিলিত হয় সেক্ষেত্রে উপরের পানি নাজিস নয়৷
মাসয়ালা-১কোন অপবিত্র জিনিয়ের উপর -যার মধ্যে কোন অস্তিত্বগত অপবিত্রতা নেইএকবার বৃষ্টির পানি প্রবাহীত হয়ে থাকে এবং ঐ জিনিষের যে যে স্থানে ঐ পানি পৌছাবে সে সে স্থান পবিত্র বলে গন্য হবে৷ আর ঐ জিনিষকে পোশাকের মত নিংড়ানোর প্রয়োজন নেই৷ কিন্তু দুই-এক ফোটা বৃষ্টির পানি তার উপর পড়তে তা যথেষ্ট হবে না, বরং এমন ভাবে পড়তে হবে যে, সবাই বলবে বৃষ্টি হয়েছে৷
মাসয়ালা-২যদি অস্তিত্বগত নাজিসের উপর বৃষ্টির পানি পড়ে এবং তা অন্যত্র গড়িয়ে যায় তবে যদি তার সাথে অস্তিত্বগত নাজিসের অংশ না থাকে এবং তার রং, গন্ধ ও স্বাধের পরিবর্তন না ঘটে থাকে তবে তা পবিত্র বলে গন্য হবে৷
মাসয়ালা-৩যদি বাড়ীর ছাদের উপর অস্তিত্বগত নাজিস থেকে থাকে এবং পানি তার সাথে মিলিত হয়ে ছাদ থেকে গড়িয়ে পড়ছে, যতণ পর্যন্ত বৃষ্টি হতে থাকবে ততণ তা পবিত্র বলে গন্য হবে৷ আর বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে যদি বোঝা যায় যে, যে পানি গড়িয়ে পড়ছে তা কোন নাজিস পদার্থের সাথে সম্পর্কযুক্ত তবে তা নাজিস বলে গন্য হবে৷
মাসয়ালা-৪অপবিত্র মাটির উপর যদি বৃষ্টি হয় তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে৷ আর যদি বৃষ্টির পানি ঐ মাটির উপর প্রবাহীত হয় এবং যেখানে নাজিস পদার্থ রয়েছে সে স্থানকেও পবিত্র করবে৷
মাসয়ালা-৫যদি নাজিস মাটি উপর বৃষ্টির পানি পড়ে কাদা তৈরী হয় এবং তাতে পানির পরিমান বেশী থাকে তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে৷
মাসয়ালা-৬যখনই বৃষ্টির পানি কোথাও জমা হয় এবং তা কোর পানির থেকেও কম পরিমানে হয়, পরবর্তীতে যখন পূনরায় বৃষ্টি আসবে তখন ঐ পানিতে কোন নাজিস জিনিষ ধুলে তা পবিত্র হয়ে যাবে৷ তবে শর্ত হচ্ছে ঐ পানি যেন নাজিস পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে তার রং, গন্ধ স্বাধের পরিবর্তন না ঘটায়৷
মাসয়ালা-৭যদি পবিত্র কার্পেট নাজিস জমিনের উপর বিছানো থাকে এবং তার উপর বৃষ্টির পানি পড়ে মাটির উপর প্রবাহীত হয় সেক্ষেত্রে কার্পেট নাজিস হবে না বরং তা মাটিকেও পবিত্র করবে৷
মাসয়ালা-৮যদি বৃষ্টির পানি বা অন্য পানি কোন অপবিত্র স্থানে জমা হয় এবং তার পরিমান কোর পানির কম হয় তবে বৃষ্টি শেষ হয়ে যাওয়ার পরে যদি ঐ অপবিত্রতা পানির সাথে সম্পর্কযুক্ত হয় তবে ঐ পানি অপবিত্র বলে গন্য হবে৷
মাসয়ালা-১কোন কুয়ার পানি যদি কোর পানির থেকে কম পরিমানে হয়ে থাকে এবং অপবিত্রতা তার সাথে সংযুক্ত হয়ে তবে তার রং, গন্ধ ও স্বাধের পরিবর্তন না ঘটা পর্যন্ত তা পবিত্র বলে গন্য হবে৷ তবে মুসতাহাব হচ্ছে যে, ঐ পানির সাথে অপবিত্রতা মিলিত হওয়ার পরে কিছু পরিমান পানি ঐ কুয়া থেকে তুলে ফেলে দিতে হবে৷
মাসয়ালা-২যদি কুয়ার মধ্যে কোন নাজিস পদার্থ ফেলা হয় এবং তার রং, গন্ধ ও স্বাধের পরিবর্তন ঘটে থাকে তবে তা ঐ সময় পবিত্র হবে যখন মাটি থেকে পানি উঠে পূর্বের পানির রং, গন্ধ ও স্বাধের পরিবর্তন ঘটিয়ে তাকে পূর্বের অবস্থায় নিয়ে আসবে৷