২- ওমরাহ্ হজ্জঃ
ক) ওমরাহ্ মুফরাদাহ্৷
খ) ওমরাহ্ তামাত্তু৷
মাসয়ালা-১
তাদের জন্যেই হাজ্জে কারান ও হাজ্জে ইফরাদ প্রযোজ্য যাদের বাড়ী মক্কায় অথবা যারা মক্কা থেকে ১৬ ফারসাখের (৪৭ মাইল) কম দুরত্বে জীবন যাপন করে৷
মাসয়ালা-২
যাদের বাড়ী ১৬ ফারসাখের কম দুরত্বে অথবা মক্কায় দুই বছর অথবা দুই বছরের বেশী সময় জীবন যাপন করেছেন এবং এই সময়ের মধ্যে মুসতাতী (হজ্জের জন্য প্রস্তুতি নেয়া) না হয়ে থাকেন তারা অবশ্যই হয় হাজ্জে কারান অথবা হাজ্জে ইফরাদ আঞ্জাম দিবেন৷ আর তারা হাজ্জে তামাত্তু আঞ্জাম দিতে পারবেন না৷ যদি তারা হাজ্জে তামাত্তু আঞ্জাম দেন তবে তা হাজ্জাতুল ইসলাম বলে গণ্য হবে না৷
মাসয়ালা-৩
যাদের দায়িত্ব হচ্ছে হাজ্জে
তামাত্তু আঞ্জমা দেয়া, যদি তা আঞ্জাম দিয়ে থাকে
অথবা মুসতাতী না থাকে তবে তারা হাজ্জে ইফরাদ আঞ্জাম দিতে পারবে৷ এরূপ ব্যক্তির জন্য
হাজ্জে ইফরাদ আঞ্জাম দেয়ার পরে ওমরাহ্ মুফরাদাহ্ আঞ্জাম দেয়া ওয়াজিব নয়৷
মাসয়ালা-৪
হাজ্জে কারান ও হাজ্জে ইফরাদের আমল অনুরূপ হাজ্জে তামাত্তুর মতই শুধুমাত্র তিনটি ত্রে ব্যতীত যা নিম্নরূপঃ
১- শুধুমাত্র মক্কাই হচ্ছে হাজ্জে তামাত্তুর এহরাম বাধার স্থান৷ আর হাজ্জে কারান ও হাজ্জে ইফরাদের এহরাম বাধার স্থান হচ্ছে যে কোন একটি মিকাত অথবা নিজের বাড়ীতে, যে বাড়ী মক্কার ১৬ ফারসাখের মধ্যে৷
২- হাজ্জে তামাত্তুর তাওয়াফ ও সা'য়ী অবশ্যই অবস্থান গ্রহণ ও ঈদের আমল আঞ্জাম দেয়ার পর করতে হবে, কিন্তু হাজ্জে কারান ও হাজ্জে ইফরাদের ক্ষেত্রে তা আগে আঞ্জাম দেয়াতে কোন অসুবিধা নেই৷
৩- হাজ্জে তামাত্তুতে কোরবানী করা হচ্ছে ওয়াজিব বিষয়, কিন্তু হাজ্জে ইফরাদে তা হচ্ছে মুসতাহাব৷
টিকাঃ এখানে হাজ্জে তামাত্তুর ব্যাখ্যা না দিয়ে আমরা হাজ্জে ওমরাহ্ মুফরাদাহ্র ব্যাখ্যা দিব৷ কেননা হাজ্জে তামাত্তু ও ওমরাহ্ তামাত্তুর ব্যাখ্যা পর দেয়াটাই শ্রেয় মনে করছি৷
যেরূপে হজ্জ ওয়াজিব ও মুসতাহাব দু'ভাগে বিভিক্ত ওমরাহ্ মুফরাদাহ্ও সেরূপ ওয়াজিব ও মুসতাহাব রয়েছে৷
মাসয়ালা-১
যার দায়িত্ব হচ্ছে হাজ্জে কারান বা ইফরাদ আঞ্জাম দেয়া যদি তার মুসতাতী হওয়ার শর্তাবলী না থাকে শুধুমাত্র ওমরাহ্ মুফরাদাহ্ করার শর্তবলী থেকে থাকে তার জন্য ওয়াজিব হচ্ছে ওমরাহ্ মুফরাদাহ্ আঞ্জাম দেয়া৷
মাসয়ালা-২
যার দায়িত্ব হচ্ছে হাজ্জে তামাত্তু আঞ্জাম দেয়া, যদি কোন কারণে তার হজ্জ পরিবর্তন হয়ে হাজ্জে ইফরাদ হয়ে যায় তবে সে ক্ষেত্রে ওয়াজিব হচ্ছে হাজ্জে ইফরাদ আঞ্জাম দেয়ার পরে একটি ওমরাহ্ মুফরাদাহ্ আঞ্জাম দিবে৷ আর যদি তা না করে তবে সেক্ষেত্রে তার উপর একটি ওমরাহ্ মুফরাদাহ্ থেকে যাবে৷
মাসয়ালা-৩
ওমরাহ্ মুফরাদাহ্ যারা মক্কার অধিবাসী এবং যারা মক্কার ১৬ ফারসাখের মধ্যে বসবাস করে তাদের জন্য সম্পূর্ণ জীবদ্দশায় এটা একবার ওয়াজিব (যদি যোগ্য হয়)৷ কিন্তু অন্যান্যদের জন্য যাদের উপর হাজ্জে তামাত্তু আঞ্জাম দেয়া ওয়াজিব তাদের ক্ষেত্রে ওমরাহ্ তামাত্তু আঞ্জাম দিলে ওমরাহ্ মুফরাদাহ্ না করলেও চলবে৷ সুতরাং তাদের উপর ওমরাহ্ মুফরাদাহ্ ওয়াজিব নয়৷ যদিও তাদের তা আঞ্জাম দেয়ার শর্তবালী প্রস্তুত থেকেও থাকে৷
মাসয়ালা-৪
যে ব্যক্তি শুধুমাত্র মক্কায় প্রবেশের ইচ্ছ রাখে, সে যদি হাজ্জে কারান অথবা ইফরাদ অথবা ওমরাহ্ তামাত্তু আঞ্জাম দিতে না চায় তবে তার জন্যে ওয়াজিব হচ্ছে ওমরাহ্ মুফরাদাহ্ আঞ্জাম দেয়া৷ আর তার জন্য কোন মিকাত থেকে নিয়ত বেধে মুহ্রেম হতে হবে৷
মাসয়ালা-৫
যদি প্লেনে করে মক্কার আকাশ দিয়ে উঠে যাওয়ার ইচ্ছা করে তবে সে ক্ষেত্রে মুহরেম হওয়ার নিয়ত করার প্রয়োজন নেই৷
মাসয়ালা-৬
ইহরাম বিহীন অবস্থায় মিকতের স্থানসমূহ পাড়ি দেয়ার অনুমতি নেই৷ তবে কেউ যদি মক্কায় প্রবেশের ইচ্ছা না রাখে অথবা ঐ আরবী মাসে ওমরাহ্ মুফরাদাহ্ অথবা হজ্জ আঞ্জাম দিয়ে থাকে অথবা ঐ ব্যক্তির চাকুরীটাই এমন যে, তাকে মক্কায় প্রতিনিয়ত যাওয়া-আসা করতে হবে সেক্ষেত্রে তার ইহরাম বিহীন অবস্থায় মিকতের স্থানসমূহ পাড়ি দেয়ার অনুমতি আছে৷
মাসয়ালা-৭
বাচ্চা, পাগল ও বিহুস ব্যক্তি এবং যারা শরীয়তি দৃষ্টিতে দ্বীনের নির্দেশ পালনের যোগ্য নয়, তাদের ক্ষেত্রে মক্কায় প্রবেশের জন্য মুহ্রেম হওয়ার প্রয়োজন নেই৷ এ ক্ষেত্রে তাদের অভিভাবকদেরও কোন দায়িত্ব নেই৷
মাসয়ালা-৮
যার উপর ওমরাহ্ ও হাজ্জ ওয়াজিব নয় সে যদি ইচ্ছকৃতভাবে মক্কায় প্রবেশ করে তবে সে গোনাহ্ করল৷ কিন্তু মক্কায় প্রবেশের পরে তার কোন আমল আঞ্জাম দিতে হবে না এবং তার মক্কায় অবস্থান করাতে কোন অসুবিধা নেই৷
মাসয়ালা-৯
কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে উল্লেখিত মিকতের স্থানসমূহ থেকে এহ্রাম বিহীন অবস্থায় পাড়ি দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করে, যদিও সে এভাবে প্রবেশ করে গোনাহ্ করল তথাপিও ওমরাহ্ মুফরাদাহ্ আঞ্জাম দেয়ার ক্ষেত্রে নিয়ত বাধার জন্য আদনাল হেল যথেষ্ট এবং নিয়ত বাধার জন্য কোন মিকতের স্থানে ফিরে যাওয়ার দরকার নেই৷
মাসয়ালা-১০
যদি কেউ জেদ্দাহ্ দিয়ে ওমরাহ্ মুফরাদাহ্ আঞ্জাম দেয়ার জন্য মক্কায় প্রবেশ করতে চায়, যেহেতু সে ৫টি মিকতের কোন একটি দিয়ে প্রবেশ করছে না সেহেতু সে হুদাইবিয়াহ্, জে'রানেহ্ অথবা তানই'মে মুহ্রেম হতে পারবে৷ আর এ ক্ষেত্রে সে কোন গোনাহ অন্তর্ভূক্ত হবে না৷
মাসয়ালা-১১
হজ্জের মত ওমরাহ্ মুফরাদাহ্ বারংবার আঞ্জাম দেয়া মুসতাহাব, কিন্তু এক ব্যক্তি এক আরবী মাসে একটির বেশী ওমরাহ্ মুফরাদাহ্ আঞ্জাম দিতে পারবে না৷ তা তার নিজের জন্যেই হোক অথবা অন্যের জন্যেই হোক৷ তবে হজ্জ আঞ্জাম দেয়ার পরে ঐ একই মাসে ওমারাহ্ আঞ্জাম দেয়াতে কোন অসুবিধা নেই৷ আর অন্যান্য ব্যক্তির পরে যদি কেউ তা আঞ্জাম দেয় তবে তার ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম প্রযোজ্য৷
মাসয়ালা-১২
ওমরাহ্ হজ্জ আঞ্জাম দেয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোন মাস নির্ধারীত নেই, অর্থাত্ বছরের সব সময় তা আঞ্জাম দেয়া যেতে পারে এমনকি হজ্জ মৌসুমেও যদিও কোন ব্যক্তি হাজ্জে তামাত্তু আঞ্জাম দেয়ার ইচ্ছা নাও করে থাকে৷।
মাসয়ালা-১৩
যদি কেউ হজ্জ মৌসুমে (শাউয়াল, যিলক্বাদ ও যিলহাজ্জমাসে) ওমরাহ্
মুফরাদাহ্ আঞ্জাম দিয়ে থাকে এবং হজ্জের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে সেখানে উপস্থিত থাকে আর
হাজ্জে তামাত্তু আঞ্জাম দিতে চায় তবে তার ওমরাহ্ মুফরাদাহ্ আঞ্জাম দিতে হবে না৷
শুধুমাত্র হাজ্জে তামাত্তু আঞ্জাম দিলেই হবে৷
মাসয়ালা- ১
ওমরাহ্ মুফরাদাহ্র আমলসমূহ সাত
প্রকার যা নিম্নরূপঃ
এক- ইহরাম, দুই- তাওয়াফ, তিন- তাওয়াফের নামায, চার- সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাতবার দৌড়ানো, পাঁচ- চুল কাটা অথবা ন্যাড়া হওয়া, ছয়- তাওয়াফে নিসা, সাত- তাওয়াফে নিসার নামায। (চলবে)